জন্মগত হৃদরোগ: লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা

জন্মগত হৃদরোগ এখন শিশুদের ক্ষেত্রে একটি প্রচলিত শব্দ। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে প্রতি১০০০ জন শিশুর মধ্যে ৬-৭জন জন্মগত হৃদরোগে বা হৃৎপিন্ডের ক্রুটি নিয়ে জন্মায়। এই সংখ্যাটি আমাদের দেশে আরও বেশি এবং দিন দিন বেড়েই চলছে। তাই এর প্রাথমিক লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা সমন্ধে সম্যক ধারণা রাখা খুবই জরুরী।

লক্ষণ সমূহ: আপনার শিশুর ক্ষেত্রে সাধারণত যেসব লক্ষণসমূহ দেখলে প্রাথমিকভাবে জন্মগত হৃদরোগ বলে ধারণা করতে পারেন তা হচ্ছে :

. জন্মের পর থেকে শিশুর বুকের দুধ খাওয়ার অনীহা

. বুকের দুধ খাওয়ার পর শ্বাস কষ্ট হওয়া বা নীল হয়ে যাওয়া

. শিশুর কান্নাকাটি করার সময় হঠাৎ নীল হয়ে যাওয়া ও শ্বাস কষ্ট হওয়া

. শিশুর ঘন ঘন ঠান্ডা,সর্দি ও জ্বর হওয়া

. শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে না উঠা

. শিশুর বৃদ্ধির সাথে সাথে উপসর্গগুলো বৃদ্ধি পাওয়া

. শিশুর খেলাধুলার প্রতি অনীহা বা খেলাধুলা ও অন্যান্য পরিশ্রমের কাজ করলে শ্বাস কষ্ট বুকে ব্যাথাসহ সর্বপরি দুর্বল হওয়া।

 

কারনঃ

. জিনগত কারনে জন্মগত হৃদরোগ হতে পারে

. গর্ভকালীন ইনফেকশান

. হাম, রুবলো,জলবসন্ত, ডায়বেটিস

. মায়ের অবস্থা- ৩৫বছরের বেশী বয়সে বাচ্চা নেওয়া, গর্ভকালীন ঔষধ

. মদ্যপান, হনমোন জনিত কারন, ভিচুনীর ঔষধ, থ্যাডিডোমাইড ঔষধ

চিকিৎসা:

সকল প্রকার জন্মগত হৃদরোগ শল্য চিকিৎসা বা সার্জারী দ্বারা সম্পূর্নরুপে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। তবে তার আগে প্রয়োজন প্রকৃত হৃদপিন্ডের ক্রুটি সনাক্তকরণ । এবং যতদ্রুত সম্ভব শিশু স্কুলে যাওয়ার পূর্বেই জন্মগত হৃৎপিন্ডের ক্রুটি নির্ণয় করা এবং সার্জারী করা জরুরী। তবে কিছু জন্মগত হৃদরোগ এমনিতে প্রাকৃতিক নিয়মে ঠিক হয়ে যায়। যা সাধারণত শিশুর এক বছর বয়সের মধ্যেই হয়।

পরিণতি :

শিশুর জন্মগত হৃদরোগ প্রকৃত শল্য চিকিৎসা বা সার্জারীর মাধ্যমে এই ক্রুটি সঠিক সময়ে সারানো না হলে তা শিশুর জন্য পরবর্তীতে মৃত্যুঝুকির কারন হয়ে থাকে।তাই সঠিক সময়ে সঠিক শল্য চিকিৎসাই একমাত্র শিশুর জন্মগত হৃদরোগ পুরোপুরি নিরাময় করে শিশুকে আগামীতে একটি সুস্থ স্বাভাবিক জীবন দিতে পারে।